নাচুনী
ভেঙে আবার জোড়া লাগছে
কাছে দূরে
তামাম বাজারে
বস্তুর ভিতরে যে নাচ আছে
তাতে আমি এই পর্যন্ত ট্রেনে চড়ে যাই
দেখি দূর অন্ধকারে মাঠে হ্যাজাকের ওঠাপড়া
এরকম শয়ে শয়ে
হাজারে হাজারে
নাচ আছে
নাচুনীর কোন পাত্তা নেই
বারীনদার এই কবিতাটি যখন প্রথম পড়েছিলাম তখন খুবই অন্যরকম লেগেছিল। পরে আরো কতবার এই কবিতাটিকে নিয়ে ভেবেছি ইয়ত্তা নেই। আমি আপাদমস্তক নাস্তিক মানুষ, এমন একজন মানুষ যে প্রকৃতিকে স্বীকার করে, গোটা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে স্বীকার করে, তার শক্তিকে স্বীকার করে, কারন অস্বীকারের কোন জায়গা নেই। ঠিক এই স্বীকারের জায়গা থেকেই আমি মানতে বাধ্য মহাবিশ্বে একটা সুপ্রিম পাওয়ার একটা আছে বা অনেক গুলো সুপ্রিম পাওয়ার আছে। আমার মতে সেই সুপ্রিম পাওয়ারের ব্যক্তি সত্ত্বা নেই , সেই পাওয়ার সচেতন নয় (অন্তত আমরা মানুষেরা সচেতনতা বলতে যা বুঝি)। এই পাওয়ার বা শক্তির হিসেব বা প্রমান আমরা নিজেদের মধ্যে বা চারপাশের ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র বস্তুতে পাব।
আমরা আমাদের চারপাশের যে কোন বস্তুর অণুবীক্ষণিক স্তরে গেলে দেখব নিউটন প্রোটনকে কেন্দ্র করে ইলেক্ট্রন গুলো ঘুরছে। এই ঘোরাটা সব সময় চলছে , সব জায়গায় চলছে। আমি যে বিছানায় ঘুমাচ্ছি – যে ট্রেনে বেড়াতে যাচ্ছি , যে থালায় খাচ্ছি , যে বাথরুমে হাগছি সব জায়গাতেই আমি একটা ঘূর্ণনের মধ্যে বিরাজ করছি ।
ঠিক এই জায়গাটা থেকেই বারীন দার কবিতাটা শুরু করা যায়।
“বস্তুর ভিতরে যে নাচ আছে”
পদার্থের এই আণুবীক্ষণিক ঘূর্ণনটাকে যদি আমি নাচ কল্পনা করি। কী আমোঘ লাইন ভাবুন। কী মারাত্মক কবিত্বময়। আর এই নাচের মধ্যেই আমরা জীবন ধারন করি --
“তাতে আমি এই পর্যন্ত ট্রেনে চড়ে যাই
দেখি দূর অন্ধকারে মাঠে হ্যাজাকের ওঠাপড়া”
এই রকম প্রচুর, শয়ে শয়ে হাজারে হাজারে নাচ আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে।
এরকম শয়ে শয়ে
হাজারে হাজারে
নাচ আছে
এবং ঠিক এর পরের লাইনটাই আমাকে পৌঁছে দেয় ওপরে বর্ণিত সুপ্রিম পাওয়ারের দিকে, সেই অজানা শক্তির দিকে “নাচুনির কোন পাত্তা নেই”। নাচুনির আড়ালে আছেন , আর আমরা তার খেলার অংশ হয়ে জীবন যাপন করছি ।

No comments:
Post a Comment